আজ আর পয়লা বৈশাখ নতুন বছরের প্রথম দিন নয় - Songoti

আজ আর পয়লা বৈশাখ নতুন বছরের প্রথম দিন নয়

Share This

সুজিৎ চট্টোপাধ্যায় : কথাটা বেশ চমকে দেওয়ারই মত।কিন্তু কথাটা সত্যি। সম্রাট আকবর ৯৯৮ হিজরি সনে (১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে) বাংলা নতুন বছরের সূচনা করেন।একথা সবাই জানি। কিন্তু সন বা তারিখ শব্দদুটো যে বাংলা নয়, আরবি সেটা জানি কজন? হিজরি সনের প্রথম দিনটিকে বলা হত হেলা মহরম। বাংলায় পহেলা বৈশাখ। আসলে যা ফসলি সন। কর আদায়ের সুবিধার জন্যই প্রচলন। আকবরের সময় ১২ মাসের নাম ছিল করওয়াদিন, আর্দিভিহিশু, খারদাদ, তীর,আমরাদাদ,শাহরিয়ার, মিহির,আবান,আয়ুব, দায়, বাহমান ও ইস্কান্দার। পরবর্তী সময়ে গ্রহ নক্ষত্রের নামে পরিবর্তিত হয়।বিশাখা=বৈশাখ, জেষ্ঠ্য=জৈষ্ঠ্য, আষাঢ়=আষাঢ়, শ্রাবণা=শ্রাবণ, ভাষ্ট্রপদা=ভাদ্র, অশ্বিনী=আশ্বিন, কার্তিকা=কার্তিক,অগ্রহয়ন=অঘ্রা ন, পৌষা=পৌষ,ফাল্গুনী =ফাল্গুন চিত্রা=চৈত্র। পয়লা বৈশাখ আজ আর নববর্ষের প্রথম দিন নয় কেন জানতে পিছন ফিরে তাকাতে হবে খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০সন। ক্রোম্যাগ্ নন মানবগোষ্ঠীকে বলা হয় ক্যালেন্ডারের আবিষ্কারক।প্রাচীন যুগে কেউ সূর্যকে কেন্দ্র করে গণনা করেছেন যা সোলার ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত। কেউ চন্দ্রকে অবলম্বন করে । যা লুনার ক্যালেন্ডার। তবে লুনার ক্যালেন্ডারই পৃথিবীর প্রথম ক্যালেন্ডার। মূলত যা ঋতু নির্ভর ট্রপিক্যাল ইয়ার। অর্থাৎ ৩৫৬.২৪২১৮৯৬৬৯৮ দিন। প্রতি ১০০বছরে যা আধ সেকেণ্ড কমতে পারে। এই ঋতু চক্র ধরা হয় বসন্তকাল কে প্রথম ঋতু ধরে। আবার চাঁদের অবস্থানগত কারণে চন্দ্রমাস ২৯.৫৩০৫৮৮৮৫৩১ দিনের এবং ট্রপিক্যাল ইয়ার ১২.৩৬৮২৬৬৩৯২৭৫ চন্দ্রমাস। এক জটিল অঙ্ক।পূর্ণ সংখ্যা হিসেবে আসছিল না।


প্রাচীন ব্যাবিলন , গ্রিক বা রোমান সোলার ক্যালেন্ডারে সপ্তাহ হত ১০ দিনে। বছর যেহেতু ৩৬৫ দিনে । পাঁচদিন অতিরিক্ত হত । সেই পাঁচদিন হতো ঈশ্বরের জন্মদিন উৎসব। লিপইয়ার বলে কিছু ছিল না। এই ব্যবস্থা চালু ছিল জুলিয়াস সিজারের সময় পর্যন্ত। ছ হাজার বছর আগে এই ক্যালেন্ডারকে আধুনিক করেন জুলিয়াস সিজার এবং রাশিয়ান ধর্মযাজক ডেনিস ।পরে ত্রয়োদশ পোপ  গ্রেগরি ক্যালেন্ডারকে আরও আধুনিক করেন।
এরপর কেটেছে ২৫০০ বছর।রাশিয়ান যাজক ডেনিস  কন স্টান্টিনপলে যিশুর জীবনকে কেন্দ্র করে ক্যালেন্ডার বানান।কিন্তু হিসেবে গোল বাঁধলো ইস্টারের দিনটি নিয়ে। ত্রয়োদশ পোপ গ্রেগরি আত্মপ্রকাশ করেন ১৫৭২ সালে। ১৬৭৭ সালে তিনি ক্যাথলিক প্রিন্সদের চিঠি দিয়ে ক্যালেন্ডার সংশোধনের কথা বলেন। ফলে পুরানো ক্যালেন্ডারের সঙ্গে ১১দিনের তফাৎ হলো বছরে।


অন্যদিকে মহম্মদের মক্কা থেকে মদীনায় যাওয়ার দিনটিকে কেন্দ্র করে হিজরি সন। আমাদের দেশেও  চান্দ্র মাসের প্রচলন ছিল। চন্দ্রমাস শব্দ থেকে মাস কথার সৃষ্টি।চন্দ্রের আর এক নাম মাসকৃৎ। আকবরের আদেশে বঙ্গাব্দ প্রচলন করেন আকবরের নবরত্ন সভার জ্যোতির্বিদ পণ্ডিত ফতেউল্লাহ শিরাজী। অনেকে বলেন,আকবর নয়,বঙ্গাব্দের সূচনা করেন বাংলার রাজা শশাঙ্ক।


বাংলার নববর্ষ সাধারণত হয় ১৪/১৫এপ্রিল। ফতেউল্লাহের পদ্ধতি ছিল সূর্যের  মহা বিষুবরেখার স্থিতি থেকে।সেবার ছিল ১৪এপ্রিল। আজ যা এগিয়ে হয়েছে ২১মার্চ।ফলে গণনায় পার্থক্য ঘটে গেছে ২৩ দিন । অয়ন বিন্দুর একদিন সরণ হতে যেহেতু সময় লাগে ৭২বছর,তাই ২৩দিনের পার্থক্য হতে সময় লেগেছে ১৬০০ বছর। সুতরাং বৈশাখ মাসের  পয়লা আজ আর বাংলা নববর্ষ নয় ।হিসেব মত এখন বাংলা নববর্ষ পালন করা উচিত ১ চৈত্র।
একথাই বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা প্রধানমন্ত্রী নেহেরুকে জানান। তাঁর দাবি মেনে সরকার নির্ভুল রাষ্ট্রীয় পঞ্জিকা নির্মাণ করে। মেঘনাদ সাহার গণনা মেনে ইংরেজির ১৯৫৭সালের ২২মার্চ  দেশের নববর্ষ পয়লা চৈত্রকে ধরা হয়। কিন্তু সে পঞ্জিকা মানে কে?
একদিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান আর অন্যদিকে ফলিত জ্যোতিষের  ককটেলে বাংলা  পঞ্জিকা গুলির গণনায় ঐক্যমত নেই।তবু মানুষের আস্থা পঞ্জিকার ব্র্যান্ড নামের ওপর। বিশ্বাসে মিলায় বস্তু ,,তর্কে,,,,,,,,,।সেকথা ভেবে লাভ কি। কবির কথায় এমনি করে যায় যদি দিন যাক না,,,,,,,,।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages