ভাষাদিবস || চঞ্চল রায় চৌধুরী - Songoti

ভাষাদিবস || চঞ্চল রায় চৌধুরী

Share This
 বাংলা ভাষা মধুর ভাষা এটা নিঃসন্দেহে সকলে একবাক্যে স্বীকার করবে।কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল এই ভাষাই আজ সত্যি বিপন্ন ।প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় সবচেয়ে কোনঠাসা । বিশ্বকবির 'মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা ' আজ বড়োই দুর্বল প্রসার লাভের ক্ষেত্রে। বরং বর্তমানে এর যথাযোগ্য ব্যবহারে পাঠক পাঠিকার সংখ্যা ক্রম হ্রাসমান । আমরা ঢাক পিটিয়ে যতই বাংলায় নববর্ষ পালন করি না কেন বাংলা ভাষাকে প্রকৃতভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে অক্ষম ।



বর্তমান চাহিদার নিরিখে সরকারী বেসরকারী ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার গ্রহণযোগ্যতা একেবারে কম।ফলে মুখে 'বাংলায় গান গাই , বাংলার গান গাই ' বললেও বাংলায় সুপ্রভাত ,শুভ সন্ধ্যা বলার পরিবর্তে ইংরাজীতে গুড্ মর্নিং, গুড্ ইভনিং বলাতে আমরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করি ।
তাই একদা সমৃদ্ধশালী এই ভাষার এখন দৈন্য দশা একথা বলাই যেতে পারে। বাংলার গৌরব রবীন্দ্রনাথ ,নজরুল ইসলাম,বঙ্কিমচন্দ্র ,শরৎচন্দ্র ,বিভূতিভূষণ প্রমুখ সাহিত্যজগতের বিখ্যাত মণীষীগণ যেভাবে যুগান্তকারী রসদ সৃষ্টি করে গেছেন , বোধকরি পৃথিবীর আর অন্য খুব কম ভাষাতেই তা মেলা সম্ভব ।
 বাংলায় বাঙালীয়ানা ধূতি পাঞ্জাবীতে ,জন্মদিনে চালের পায়েস ,সরস্বতী পুজোয় মেয়েদের শাড়ি পরে পুষ্পাঞ্জলি এখন ও আছে । নিমন্ত্রণ পত্রে পুরনো রীতির ছাপ লক্ষ্যনীয় ।তবু মোবাইলে মেসেজ পাঠানো বেশি আকর্ষণীয় । বাংলা শিক্ষা লাভের থেকে ইংরাজীতে আদব কায়দা রপ্ত করাটা আজ বেশি গর্বের মনে হয়।বাংলা ভাষা শিক্ষা অগ্রগতির পথে একপ্রকার বাধা ,এইরকম মনোভাব আজকের দিনে অনেকে পোষন করে চলেন দেখি । বাঙালী ঐতিহ্য বলতে পৌষমেলা শান্তিনিকেতন উৎসব আর বইমেলা ।আর রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তী পঁচিশে বৈশাখ ,বাইশে শ্রাবণ । আর বাংলার বাউল জয়দেব মেলা ।লোক সংস্কৃতি পিঠে পরব ,আঞ্চলিক পল্লীগীতির মাঝে এখনো বাংলা জাগ্রত ।
২১ শে ফেব্রুয়ারী 'ভাষা দিবস' বলে স্মরণ করি ঠিকই  ।আর এই দিনটি শহিদ দিবস হিসেবেও পালন করে থাকি । তবে অতীতকে মনে রেখে আরো আন্তরিক হতে পারলে যোগ্য মর্যাদা প্রদান করা হয়। শুধুমাত্র মুখে নয় মনে প্রাণে বিশ্বাসটাও খুব জরুরী ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages