ভারত ওবেসিটিতে বিশ্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করলো - Songoti

ভারত ওবেসিটিতে বিশ্বে তৃতীয় স্থান অর্জন করলো

Share This
ওবেসিটি একটি গম্ভীর সমস্যা যা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। WHO অনুযায়ী গত ৪০ বছরে স্থুলতার বিশ্বব্যাপী বিস্তার প্রায় তিনগুন হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রাপ্তবয়স্ক দের ৫০% মানুষের ই ওজন বেশি বা মোটা। সাম্প্রতিক গবেষণা এবং WHO এর তথ্য দেখায় যে নিম্নক্ত দেশগুলিতে সর্বাধিক প্রাদুর্ভাব রয়েছে।


১. আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র
২. চীন
৩. ভারত
৪. ব্রাজিল
৫. মেক্সিকো
৬. রাশিয়া
৭. ইজিপ্ট
৮. তুর্কী
৯. ইরান
১০. নাইজেরিয়া

ওবেসিটি’র কারন
শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকার কারনে ওবেসিটি হয়। ওবেসিটি’র বিভিন্ন কারন রয়েছে। ওবেসিটি’র সঠিক কারন খুঁজে বের করতে পারলে তার চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হবে। ওবেসিটি’র কয়েকটি সাধারন কারন হলঃ
·         জিনঘটিত কারন
·         অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
·         নিষ্ক্রিয়তা
·         Cushing এর সিনড্রোম
·         নির্দিষ্ট ওষুধ
·         হতাশা
·         Thyroid এর সমস্যা
ওবেসিটি জনিত সমস্যাঃ
ওবেসিটি উপসর্গ প্রত্যেক মানুষের আলাদা হতে পারে এবং তিব্রতা পরিসীমা করতে পারে। সবচেয়ে সুস্পষ্ট উপসর্গ হল শরীরে চর্বির পরিমান। অনেকেই এই উপসর্গ গুলির ব্যাপারে সচেতন কিন্তু নিজেদের শরীরে তার প্রভাব বুঝতে পারে না। অনেক রোগী তাদের ওবেসিটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর পরে তার চিকিৎসা শুরু করে। অন্যান্য সমস্যা যা ওবেসিটি’র সাথে শরীরে আসে সেগুলি হল-
·         উচ্চ রক্তচাপ
·         জয়েন্ট পেন
·         ডাইবেটিস
·         ত্বকের সমস্যা
·         Menstruation সমস্যা
·         উচ্চ কোলেসট্রল
·         হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক
ওবেসিটির নির্ণয়ঃ
চিকিৎসকরা ওবেসিটি নির্ণয় করার জন্য একটি স্কেল ব্যবহার করেন জার নাম বডি মাস ইনডেক্স বা বি এম আই। যদি কোন রোগীর বি এম আই ২৫.০ থেকে ২৯.৯ হয় তবে তাদের ওজোন প্রয়োজন এর অতিরিক্ত নির্ধারণ করা হয়। ৩০.০ থেকে ৩৪.৯ বি এম আই কে ক্লাস ১ ওবেসিটি ধরা হয়, ৩৫.০ থেকে ৩৯.৯ কে ক্লাস ২ ওবেসিটি  এবং ৪০.০ ও আর বেশি কে মাত্রাতিরিক্ত ওবেসিটি বলা হয়। ওবেসিটি নিরধারন এর বাকি উপায় গুলি হলঃ
·         স্বাস্থের ইতিহাস
·         শারীরিক পরীক্ষা
·         কোমরের পরিমা
·         শরীরের অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা নির্ণয়
·         রক্ত পরিক্ষা
·         ইউরিন পরীক্ষা
ওবেসিটির চিকিৎসাঃ
ওবেসিটির চিকিৎসা মূলত প্রতিরোধ এর মাধ্যমে করা হয়। যাদের ওজন বেশি তাদের উপর নজর রাখা হয় এবং যথেষ্ট কঠোর ডায়েট চার্ট মেনে চলতে হয় যাতে তাদের অতিরিক্ত অজন বাড়তে না পারে। তাদের কাউন্সেলর ও দেওয়া হয় যাতে তাদের কন মানশসিক সমস্যা বা হতাশা না আশে। কয়েকটি স্বাভাবিক প্রকিয়া তে ওবেসিটি নির্মূল করার উপায় হলঃ
·         ডায়েট এ পরিবর্তন- পুষ্টিবিদরা রোগীদের ওজন কমানোর লক্ষপূরণ করার জন্য নির্দিষ্ট ডায়েট দিতে পারেন।
·         শারীরিক চিকিৎসা- নিষ্ক্রিয় রোগীদের শারীরিক চিকিৎসার মাধ্যমে ওজন হ্রাস করানো হয়
·         আচরণগত চিকিৎসা- ওবেসিটি প্রায় ই অতিরিক্ত খাওয়ার জন্য হয়, এই থেরাপি রোগীদের অতিরিক্ত খাওয়া উপেক্ষা করতে শেখায়।
·         নির্দিষ্ট গোল নির্ধারণ করা- চিকিৎসকরা রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ওজন কমানোর গোল নির্ধারণ করেন যা তারা সেই নির্দিষ্ট সময়ে অর্জন করতে চেষ্টা করে।
·         ওষুধ- অনেক ওষুধ রয়েছে জা ওজন কমাতে সাহায্য করে।
·         ওজন কমানোর সার্জারি- এই সার্জারি তে পাকস্থলি ছোট করা হয় যাতে তা বেশি খাবার না নিতে পারে এবং রোগীর খুব বেশি না খেয়েও পেট ভরে যায়।
ওবেসিটির পূর্বাভাস
যারা সঠিক চিকিৎসার সাহায্য নেয় তারা ওবেসিটি অতিক্রম ও করতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, অনেক মানুষ তাদের খারাপ অভ্যাস এর সাথে সংগ্রাম করেও এবং সার্জারির পরেও ওজন কমাতে পারেনা। সফলতা নির্ভর করে রোগীর ইচ্ছা এবং চিকিৎসকের সাথে একমত হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায়। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages