পুন্ড্র থেকে পান্ডুয়া, হজরত পান্ডুয়া - Songoti

DEBI SAMMAN ADVERTISEMENT

পুন্ড্র থেকে পান্ডুয়া, হজরত পান্ডুয়া

Share This

চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য, কলকাতা ঃ সপ্তম খ্রিস্টাব্দের দ্বিতীয় শতকে চিনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এখানে আসেন। তাঁর বিবরণে এই এলাকার সমৃদ্ধির ও বিস্তৃতির কথা জানা যায়। হিউয়েন সাং লিখেছেন ‘সাং ক-চু-উ-খি-লো’ (রাজমহলের কাছে ‘কজঙ্গল’) থেকে পূর্ব দিকে রওনা হয়ে গঙ্গা পেরিয়ে ‘পুন-ন-ফ-তন-ন’ (পুন্ড্রবর্ধন) অঞ্চলে পৌঁছান। সেখান থেকে আরও পূবে গিয়ে কিয়-মো-লু-পো (কামরূপ) পৌছনোর আগে এক বিশাল নদী পার হন। অর্থাৎ কজঙ্গল থেকে পুন্ড্রবর্ধন হয়ে কামরূপ পর্যন্ত রাস্তা ছিল। ফলে, পুন্ড্রবর্ধনের অবস্থিতিতে মধ্যগাঙ্গেয় উপত্যকায় শাসন ও সংস্কৃতির বিস্তার সম্ভব হয়েছিল।।


       ‘করতোয়া-মাহাত্ম্য’ থেকে জানা যায়, ১২ শতক পর্যন্ত পুন্ড্রনগর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ছিল। মধ্যযুগে পুন্ড্রনগর ও পুন্ড্রবর্ধন রাজ্য ধীরে ধীরে পশ্চাদপদ হয়ে যায়। তখন এর নাম ছিল মহাস্থান। আজ বাংলাদেশের বগুড়ার কাছে রয়েছে মহাস্থানগড়। সেখানে মাটি খণন করে পাওয়া গিয়েছে বিপুল পরিমানে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী।।

       এই পৌন্ড্রবর্ধন বা পুন্ড্রবর্ধন রাজ্যের একদা রাজধানী ছিল গৌড়। যখন থেকে মুসলমান শাসকরা এলেন, সম্ভবত রাজা শশাঙ্কের শেষ দিকে, বখতিয়ার খিলজি বাংলায় নিজের প্রভাব বাড়াতে থাকেন, গৌড়ের থেকে রাজত্বের চাবিকাঠি সরে যেতে থাকে। লক্ষণ সেন যেমন রাজধানী সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন নবদ্বীপে, তুর্কী আমল থেকেই গৌড়ের রাজধানী রাজত্ব সরতে থাকে। সরে যায় দিল্লিতে। তখন স্থানীয় শাসনের কেন্দ্র হয়ে যায় নিকটের আরেকটি এলাকা – পান্ডুয়া। এই জায়গাটিই সেদিনের পৌন্ড্রবর্ধনের অপভ্রংশ। এখানকার বাসিন্দারাই পৌন্ড্র বা পোঁদ।।

      পান্ডুয়াও ছিল দুটি – ছোট পান্ডুয়া ও বড় পান্ডুয়া। ছোট পান্ডুয়া হল হুগলি জেলায়, ব্যান্ডেলের কয়েকটি স্টেশন পরে। এখানে এখনও পাণ্ডুয়া মিনার, বাইশ দরওয়াজা আছে। আর, বড় পান্ডুয়া হল মালদার কয়েক কিলোমিটার দূরে। মুসলমান শাসকরা বড় পান্ডুয়ার বড়ত্ব মুছে আরও বড় করতে জুড়ে দেন ‘হজরত’ শব্দটি সেটি তখন থেকেই হজরত পান্ডুয়া।।
     সুলতান ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮) দিল্লি থেকে ফের বাংলা ছিনিয়ে নেন, আর গৌড় থেকে রাজধানী উঠিয়ে নিয়ে চলে আসেন পাণ্ডুয়ায়। পরে রাজধানী আবার গৌড়ে ফিরে গিয়েছিল। এই সময়টাই পাণ্ডুয়ার স্বর্ণযুগ। অনেক মসজিদ আর সৌধ এখানে তৈরি হয়েছিল সেই সময়।।
     ১৩৪২ সালে সোনারগাঁও (ঢাকা) বিজয়ের পর ‘লখনৌতি’ বা ‘লক্ষণাবতী’ জয় করে শামসুদ্দীন ওরফে ইলিয়াস শাহ হয়ে যান এই এলাকার স্বাধীন শাসনকর্তা। তিনিই অবিভক্ত বাংলার প্রথন মুসলিম স্বাধীন সুলতান ছিলেন। তাঁর থেকেই শুরু হয় ইলিয়াস শাহী বংশ। এই বংশ ১৩৪২  থেকে ১৪১৫ সাল টানা ৭৩ বছর বাংলা শাসন করেছে। এরপরও মাঝে মাত্র ২০ বছর বাদ দিয়ে আরও ৫২ বছর তাঁরাই ছিলেন ক্ষমতায়।। 


No comments:

Post a Comment


Debi Samman

Pages