ভিএলসিসি লঞ্চ করল ভিকেয়ার মহামারীর বিরুদ্ধে ভারতের সংগ্রামের মাঝে কোভিড-19 পরবর্তী স্বাস্থ্যোদ্ধারের উদ্দেশ্যে ভিএলসিসি সূচনা - Songoti

ভিএলসিসি লঞ্চ করল ভিকেয়ার মহামারীর বিরুদ্ধে ভারতের সংগ্রামের মাঝে কোভিড-19 পরবর্তী স্বাস্থ্যোদ্ধারের উদ্দেশ্যে ভিএলসিসি সূচনা

Share This

 কলকাতা: ভিএলসিসি কোভিড-19 সংক্রমণের পরবর্তী পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের বিরদ্ধে বিশেষভাবে কার্যকর এক সুনিবিড় স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার কর্মসূচী- ভিকেয়ার (VCare)- এর সূচনার বিষয়ে ঘোষণা করে। সংক্রমণ-মুক্ত ঘোষিত হবার পরবর্তী সপ্তাহ এবং মাসগুলিতে রোগীর উপযুক্ত যত্নের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত ভিকেয়ার, রোগীর শারীরিক ও মানসিক, উভয়প্রকার স্বাস্থ্যোদ্ধারে সাহায্য করে। এই কর্মসূচীটি অন-লাইন www.vlccwellness.com এর মাধ্যমে এবং সারা দেশে সবকটি ভিএলসিসি ওয়েলনেস ক্লিনিকে পাওয়া যাবে।



গবেষণায় দেখা গেছে যে চিকিৎসাবিদ্যার হিসাবে সুস্থ ও ভাইরাসমুক্ত ঘোষিত হবার অনেক মাস পর অবধি 80% পর্যন্ত রোগীর কষ্টদায়ক লক্ষণ থেকে যেতে পারে। এই অবস্থাটিকে সম্প্রতি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ, আমেরিকা থেকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং এর নাম রাখা হয়েছে “পোস্ট-অ্যাকিউট সিকুয়েলি অফ SARS-CoV-2 ইনফেকশন”। কোভিড পরবর্তী লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে অত্যধিক ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, ক্ষিদে না পাওয়া, অল্প মাত্রায় ক্লান্তিজনিত জ্বর, নিঃশ্বাসের কষ্ট, শুকনো কাশি, রেসিডুয়াল ব্রঙ্কাইটিস, গাঁটের ব্যথা, পেশীর ব্যথা, চিন্তা ও মনঃসংযোগে অসুবিধা (মস্তিষ্কে কুয়াশা) এবং হতাশা ও উদ্বেগ। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে এই সমস্যাগুলি জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

 

রোগীর কোভিড পরবর্তী যত্নের গুরুত্বের বিষয়ে ভিএলসিসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং সহ-চেয়ারপার্সন, শ্রীমতি বন্দনা লুথরা বলেন,“দেশের রোগ নিরাময়কারী চিকিৎসা ব্যবস্থা যেখানে সম্পূর্ণভাবে এবং সঠিক কারণেই কোভিড-19 মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিয়োজিত, সেখানেই যেসব রোগী সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাঁদের পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যোদ্ধারের উদ্দেশ্যে পথপ্রদর্শন করে যাওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী পর্যায়ে উপযুক্ত যত্নের অভাবে এইসব রোগীদের বিশেষ চিকিৎসার, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হবারও প্রয়োজন হতে পারে, যা ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে থাকা আরোগ্যপ্রদানকারী স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে আরও বেশী সমস্যার কারণ হতে পারে। ঠিক এই ক্ষেত্রেই ভিএলসিসি, থেরাপি দ্বারা চিকিৎসা বিষয়ে তাদের গভীর জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এই সংকটের মোকাবিলায় নিজেদের কার্যকরী অবদান রাখতে এগিয়ে আসছে। যতই আমরা এই মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের দিকে এগিয়ে যাব, কোভিড-19 পরবর্তী স্বাস্থ্যোদ্ধার কর্মসূচী ততই শুধুমাত্র রোগীদের সুস্বাস্থ্য উদ্ধারেই নয় বরং ভারতের চিকিৎসাব্যবস্থার উপর থেকে চাপ লাঘবের ক্ষেত্রেও এক বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করবে।”

ভিএলসিসি হল একমাত্র সংস্থা যাদের সুস্বাস্থ্য কর্মসূচী “ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা অনুমোদিত” হবার তকমা বহন করে।

 

কোভিড-19 পরবর্তী স্বাস্থ্যোদ্ধার কর্মসূচী ভিকেয়ার, কোভিড-19 মহামারীর বিরুদ্ধে প্রথম সারিতে যুদ্ধরত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ, ফিজিওথেরাপিস্ট এবং মনোবিদ্‌দের দ্বারা গঠিত ভিএলসিসি-র গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ কর্তৃক নির্মিত।


 

শারীরিক, জৈবরাসায়নিক, শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত, সুস্বাস্থ্য ও যন্ত্রণা নিরাময় সম্পর্কিত বিষয়, ও তার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক সুস্বাস্থ্য বিষয়ে পরিমাপযোগ্য উপকার প্রদানের উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচীটি পরিকল্পিত। প্রতিটি কর্মসূচী রোগীবিশেষের চিকিৎসার ইতিহাস ও বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্মিত। কর্মসূচীটিতে রয়েছে ব্যাপক মূল্যায়ণ ও যাচাই প্রক্রিয়া,

 

ফিজিওথেরাপি, হৃদযন্ত্র তথা ফুসফুসের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, শারীরিক কসরতের সূচীবিষয়ে নির্দেশ, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, খাদ্যসূচীর পরিবর্তন ও নিরীক্ষণ, আয়ুর্বেদ ও যোগব্যায়াম জাতীয় বিশেষ থেরাপি, এবং মানসিক স্বাস্থ্য উদ্ধারের লক্ষ্যে আচরণগত পরিবর্তনের জন্য কাউন্সেলিং। পরিমাপযোগ্য উপকারগুলির মধ্যে মূলত রয়েছে সহনশক্তি, ফুসফুসের ক্ষমতা, দেহের নমনীয়তা, সহিষ্ণুতা, পেশীশক্তি, ক্ষিদে এবং হজমশক্তির উন্নতি এবং গাঁটের ব্যথা, পেশীতে ব্যথা ও ক্লান্তি হ্রাস।

 

এই সংস্থা আরোও সূচনা করেছে ভিশিল্ড (VShield) এর, যা হল মানবদেহের নিজেকে নিরাময় করার প্রবণতা এবং তার স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সুগঠিত করার লক্ষ্যে নির্মিত একটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বর্ধক কর্মসূচী। ব্যক্তিবিশেষের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই যে কোভিড-19 জাতীয় ভাইরাস সংক্রমণের প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, এই উপলব্ধি থেকেই এই সক্রিয় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক উদ্যোগটি গৃহীত।

 

ভিশিল্ড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বর্ধক কর্মসূচীটিও হল একটি ব্যক্তিগতকৃত সমাধান যা একটি তিন ধাপের প্রক্রিয়া মেনে চলে। প্রথম ধাপে এপসম লবণ ও মাল্টিভিটামিনযুক্ত থেরাপির উপযুক্ত তেল ব্যবহার করে শরীরের ডিটক্সিফিকেশন বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে লিভার সংকোচন থেরাপির মাধ্যমে শরীরের অন্যতম প্রধান পাচক অঙ্গ লিভারের শোধন ত্বরান্বিত করা হয়। তৃতীয় ও সর্বশেষ ধাপটি হল ক্রেনিয়োসেক্রাল রিফ্লেক্সোলজি, যা রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধিতে এবং সারা দেহে চাপ ও উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে রক্ত ও লসিকা সংবহনের উন্নতি হয় এবং শরীরের টিস্যু থেকে টক্সিন বেড়িয়ে যায়।

 

ভিকেয়ার ও ভিশিল্ড কর্মসূচীদুটি চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট, পুষ্টিবিদ এবং থেরাপি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা প্রদত্ত এবং অন-লাইন www.vlccwellness.com এর মাধ্যমে ও সারা ভারতে সংস্থার 150 টিরও বেশী ভিএলসিসি ওয়েলনেস ক্লিনিকে পাওয়া যাবে। এই সংস্থা হাসপাতালগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমেও এই কর্মসূচীটি প্রদান করবে, যা রোগীর লক্ষণের তীব্রতার ভিত্তিতে 1 থেকে 4 সপ্তাহ ব্যাপী চলতে পারে।

No comments:

Post a Comment

Pages