“শিশু আধিকার রক্ষায় “কাল নয় আজই” হল সিনির মূলমন্ত্র - Songoti

“শিশু আধিকার রক্ষায় “কাল নয় আজই” হল সিনির মূলমন্ত্র

Share This
বার্তা প্রতিবেদন, কলকাতাঃ ভাবনাটা শুরু হয়েছিল অনেক আগে, তারই ফলস্বরূপ ১৯৭৪ সালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডঃ সমীর চৌধূরী পিছিয়ে পড়া শিশু এবং মহিলাদের সাহায্যার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। পথটা সহজ ও মসৃন ছিল না আদৌ। এগিয়ে চলার পথে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সত্বেও আন্তরিকতা আর মানসিক দৃঢ়তায় স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, এবং শিশু-সুরক্ষা - প্রতিটি ক্ষেত্রেই দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ৪৬ বছরের ক্রমাগত ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় শিশুদের অধিকার-ভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিরোধমূলক সমাধান সহ সিনি আজ হাজার-হাজার মহিলা ও শিশুদের কাছেই শুধু নয়; ভারতের অন্তর্গত পশ্চিমবঙ্গ ঝাড়খন্ড, ওড়িশা, আসাম, ত্রিপুরা, অরুনাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড এবং মনিপুর সহ ৮টি রাজ্যে প্রায় ১৩০০ স্থানীয় কর্মীর সহায়তায় প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের জীবন স্পর্শ করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান ও গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে যে, সিনির এই প্রতিরোধ মূলক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে স্কুলছুট, অপুষ্টি, বাল্য-বিবাহ, এবং শিশুদের নির্যাতন ও শোষণ এবং পাচার অনেকাংশে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে সিনি বিগত ৪৬ বছরের অভিজ্ঞতায়


ভারতবর্ষের শিশুদের অধিকারের লক্ষ্য অর্জনে প্রাপ্য সাফল্যের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছে। হার্ভার্ড বিশবিদালয়ের পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ও সমীক্ষায় প্রামাণ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য সম্বলিত প্রতিবেদনে স্বীকৃত যে, সিনির এই প্রতিরোধমূলক
কার্যকরণ পদ্ধতি রূপরেখায় সরকার নির্ধারিত শিশু এবং কিশোর –কিশোরীদের বিভিন্ন কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের “পরে নয়, আগে”- এর চুড়ান্ত মূল্যায়ণে বলা হয়েছে যে, শিশুদের আধিকার রক্ষায় সিনির এই পদ্ধতি কার্যকরী। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় স্তরথেকে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাটিকে কাঠামোগত পরিবর্তন ও আমূল রূপান্তকরণের মাধ্যমে ত্বরান্বিত করে তার ভিত সুদৃঢ় করে।
হার্ভার্ড বিশবিদালয়ের স্বাস্থ্য ও মানবধিকার বিভাগের অধিকর্তা এবং “পরে নয়, আগে” গবেষণামূলক প্রতিবেদনের সহ-লেখক প্রফেসর জ্যাকলিন ভাভা বলেছেন “বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটের নিরিখে, সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ শিশু সাংঘাতিক নির্যাতন, হিংসা, ও শোষণের শিকার; কারন এক্ষেত্রে প্রাথমিক ঝুকিরধের জন্য সতর্কতা উপেক্ষা করা হয়। বিশ্বব্যাপী সমাজের প্রতিনিধি হিসাবে আমাদের প্রত্যেককেই এই বিশ্বে শিশুদের ক্ষতি করার পরে নয়, অনেক আগেই শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। ভারতীয় স্বেছাসেবী সংস্থা সিনি সুন্দর ভাবে এই কাজটি চিত্রিত করে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে চলেছে।” আজ সাংবাদিক দের সাথে মুখমুখি এক আলোচনায় বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা শ্রী সৌমিত্র চ্যাটার্জি এই গবেষণার রিপোর্ট উন্মোচন করেন, তিনি জানান “আমাদের সবার জন্য এটি একটি গর্বের মুহূর্ত। পশ্চিম বাংলার এক স্বেচ্ছা সেবী সংস্থা সিনির আন্তর্জাতিক স্তরে এমন স্বীকৃতির সম্মান আমাদের জন্য বাঙালি হিসেবে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এই কৃতিত্বের জন্য আমি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ সমীর চৌধুরীকে এবং সিনির সমস্ত সদস্যদের হার্দিক অভিনন্দন জানাই। আমি রাজ্যে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য তাঁদের নিরন্তর কাজের প্রত্যাশায় রয়েছি।” সিনির প্রতিষ্ঠাতা এবং সেক্রেটারি ডঃ সমীর নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিষয়ে চর্চার মাধ্যমে সিনি-পদ্ধতি আন্তর্জাতিক স্তরে আর একবার স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ পেল। আমরা বিশ্বাস করি, ভারতবর্ষ এবং পৃথিবীর শিশু সমস্যার সমাধানে এই দৃষ্টিভঙ্গী একটি নতুন, আরো কার্যকরী, নৈতিক এবং ব্যয়- সংকোচন পথের সন্ধান দিতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের
এই ফলাফল প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ। শিশু সমস্যার ক্ষেত্রে সামাজিক ক্ষেত্রে বিবিধ দুর্বলতা ও ভঙ্গুর পরিকাঠামোর প্রেক্ষাপটে নিরন্তর বাধা অতিক্রম করে আমরা এই পদ্ধতিকে আমাদের দেশে এবং তার বাইরেও ছড়িয়ে দিতে পারবো।
কলকাতার চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউটকে (সিনি) হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তার অনন্য আগে, পরে নয় – এই পদ্ধতির জন্য প্রশংসা করেছে এবং স্বীকৃতি দিয়েছে। বহু দশক ধরে সামগ্রিক সম্প্রদায় বিকাশ এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার জন্য কাজ করা, ভারতে প্রথম শিশুদের অধিকার লঙ্ঘন রোধ করার জন্য আগে, পরে নয় পদ্ধতিটি সিনি’র একটি বিশেষ উদ্যোগ। শিশু সুরক্ষার প্রতিরোধমূলক পদ্ধতির এটি একটি উল্লেখযোগ্যঅংশ। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা শ্রী সৌমিত্র চ্যাটার্জি স্বীকৃত গবেষণা পত্রটি উন্মোচন করার সময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সংবাদ মাধ্যমের কাছে বিষয়বস্তুর
উপস্থাপনা উপলক্ষ্যে সংস্থার পক্ষ থেকে সিনির প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারি ডাঃ সমীর নারায়ণ চৌধুরী ও সিনির বিভিন্ন সহযোগী সেচ্ছাসেবী সংস্থা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। “পরে নয়, আগে” - সিনির এই প্রক্রিয়াটি হল শিশুসুরক্ষার প্রতি প্রতিরোধমূলক দৃষ্টিভঙ্গী বা দুর্ঘটনার পূর্বেই হস্তক্ষেপ। সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং পঞ্চায়েত স্তরে যেখানে শিশুরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয়, সেখানে শিশু অধিকার লঙ্ঘন হয়ে যাওয়ার পরে লড়াই বা প্রচারের থেকেও অনেক আগে থেকেই ক্ষতির প্রতিরোধে শিশুদের নিরাপদ রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের অধিকার অর্জনের লক্ষে সিনি’র কার্যকরী এই পদ্ধতিতে স্থানীয় সম্প্রদায়,গ্রামীণ ও শহরকেন্দ্রিক স্ব-শাষিত সরকার এবং নাগরিক জরুরী পরিষেবা প্রদানকারী সাংগঠনিক সংস্থা, যেমন - শিক্ষক, স্বাস্থ্য ও আই সি ডি এস কর্মী (অঙ্গনওয়ারী কর্মী), পুলিশ, ইত্যাদি সবাইকে এমন একটি বৃত্তের আওতায় আনা হয়েছে যেখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি মেনে শিশুদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (National Plan of Action for Children - NPAC), রাজ্য পরিকল্পনা (State Plans of Action for Children-SPAC) সমন্বয়ে সার্বিক উন্নয়ন পরিকাঠামোর ধারা অব্যাহত থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here

Pages